প্রযুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রযুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ফেইসবুক হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম কাজ করছে না কেন?

ফেইসবুক হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম কাজ করছে না কেন?
আজ ৫ই অক্টোবর ২০২১, বাজে সাড়ে বারোটা । এখন পর্যন্ত ফেইসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম বন্ধ রয়েছে। মূল কথা হল, ফেইসবুক বন্ধ রয়েছে। যেহেতু এক ফেইসবুকের ছায়াতলে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম রয়েছে। শুধু বাংলাদেশে না। বরং সাড়া বিশ্বব্যাপী । ফেইসবুক জনপ্রিয় হবার পর থেকে হয়তো এত দীর্ঘ সময় সার্ভার ডাউন ছিলো না। আজকের এই বিষয়টা নিয়ে প্রশ্নে প্রশ্নে কিছু তথ্য জেনে নিই।


কখন থেকে ফেইসবুক বন্ধ হয়েছে?
মার্কারি নিউজের তথ্যমতে ফেইসবুক ৪ই অক্টোবর রাত ৮ঃ৪৫ থেকে সার্ভার ডাউন হয়ে গেছে।

ফেইসবুকে কি সাইবার এটাক হয়েছে?
না। ফেইসবুকে সাইবার আক্রমণ হয়নি । ফেইসবুক ডোমেইন নেম সিস্টেমের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে অক্ষম হচ্ছে ।

ফেইসবুক কেন বন্ধ আছে?
এটার উত্তর এখনো পরিষ্কার না। তবে আপাদত এটা পরিষ্কার যে, ফেইসবুকের ডিএনএস সার্ভার সমস্যার কারণে মোবাইল এপ কিংবা ডেক্সটপে ফেইসবুক চালানো যাচ্ছে না। 

হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম কেন বন্ধ?
যেহেতু ফেইসবুক বন্ধ তাই হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামও বন্ধ থাকবে তাই স্বাভাবিক। কারণ, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম পরিচালনা করছে ফেইসবুক স্বয়ং।

ফেইসবুক কাজ করছে না এ ব্যাপারে ফেইসবুক কি বলছে?
ফেইসবুক তাদের টুইটারে বলেছেন "কিছু মানুষ আমাদের অ্যাপ এবং প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে পারছেন না এ বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। আমরা যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। মানুষের অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখপ্রকাশ করছি।" 

ভিপিএন দিয়ে ফেইসবুক চালানো যাবে?
না। এই মুহূর্তে ভিপিএন দিয়ে ফেইসবুক চালানো যাবে না। সারা বিশ্ব ব্যাপী কেউ ফেইসবুক বন্ধ রয়েছে।

ফেইসবুক কতক্ষণ বন্ধ ছিলো ৫ই অক্টোবর?
রাত ৮ঃ৪৫ থেকে প্রায় ৮ ঘন্টা বন্ধ ছিল। তবে এটা সু-নিশ্চিত উত্তর না। 

ফেইসবুক বন্ধ এতে ফেইসবুকের কি কি ক্ষতি হবে?
ফেইসবুক বন্ধ হওয়ার কারণে ফেইসবুকের শেয়ার মার্কেট অনেক খানি ধ্বস নামবে। ৫.৫% শেয়ার ক্ষতিগ্রস্থ হবে ফেইসবুক। এতে করে এই বছরের ফেইসবুকের শেয়ার অনেক খানি কমে গেলো । 

(লেখাটি আপডেট হবে...)


তথ্যসূত্রঃ
https://www.mercurynews.com/2021/10/04/facebook-instagram-whatsapp-down-for-users-across-the-world/
https://twitter.com/Facebook/status/1445061804636479493?s=20
https://www.dhakatribune.com/world/north-america/2021/10/04/whistleblower-says-facebook-put-profit-before-reining-in-hate-speech
https://www.thedailystar.net/tech-startup/science-gadgets-and-tech/tech-news/news/facebook-put-profit-over-clamping-down-hate-speech-says-whistleblower-2190371
https://bdnews24.com/technology/2021/10/04/facebook-says-some-people-are-having-trouble-accessing-its-apps-and-products
https://downdetector.com/status/facebook/
https://www.theverge.com/2021/10/4/22708989/instagram-facebook-outage-messenger-whatsapp-error
https://www.tbsnews.net/tech/facebook-messenger-instagram-and-whatsapp-are-down-many-users-311500
https://www.nytimes.com/2021/10/03/technology/whistle-blower-facebook-frances-haugen.html
https://techcrunch.com/2021/10/04/facebook-messenger-instagram-whatsapp-are-all-down/
https://twitter.com/gangizilapak/status/1445101683873394689

DNS সার্ভারের আদ্যপান্ত । কিভাবে ডিএনএস সার্ভার ডোমেইন নেইম থেকে আইপি বের করে আনে

DNS সার্ভারের আদ্যপান্ত । কিভাবে ডিএনএস সার্ভার ডোমেইন নেইম থেকে আইপি বের করে আনে

আজকের আলোচনাটা হল DNS নিয়ে । মানে, কম্পিউটার নামক একটি যন্ত্রের ভেতরের একটি গল্প । সাধারণত, আমরা একজনকে চিনতে হলে নামটা মনে রাখি । মুখ চিনে রাখার সাথে নামটা মনে রাখতে পারলেই যে কোন সময় তাকে আমরা চিনতে পারি । কিন্তু একটা যন্ত্র এ ব্যাপারটা বুঝতে কি করে? যেহেতু আলোচনাটা কম্পিউটার যন্ত্রটি নিয়ে । কম্পিউটার যন্ত্রটি সংখ্যা ছাড়া কিছুই বুঝতে পারে নাহ । তাও আবার মাত্র ২টি সংখ্যা । একটা হল, ০ আরেকটা হল ১ । এটার পশ্চাৎ ইতিহাস আমি আমার আগের একটা লেখায় লিখেছিলাম । আজ আর সে বিষয়ে কথা বলবো না । মানুষ প্রোগ্রাম করে এই দুই সংখ্যা দিয়ে কম্পিউটারকে ডেসিমাল সংখ্যা, সাঙ্কেতিক চিহ্ন ও অক্ষর বুঝাতে পেরেছে । তবে সংখ্যা বা অক্ষর যদিও আমরা কম্পিউটারে ইনপুট দিই তবুও তা কম্পিউটার বাইনারিতে কনভার্ট করে পড়ে নেয় । এ নিয়ে আর কথা বলছি না । DNS বুঝাতে এর বেশি কিছুই দরকার নেই ।

আপনি গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট প্যাক কিনে কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন । আপনি আপনার ক্রোম ওয়েব ব্রাউজারের এড্রেসবারে লিখলেন www.facebook.com । যেহেতু আপনি জানেন যাকার্বাগের তৈরী সোস্যাল সাইটের ডোমেইন নেম হল facebook । সাইটটি লোড হওয়ার পর আপনি ফেইসবুক উপভোগ করতে লাগলেন । এখানে কিছু ঘটনা আপনার অজান্তেই ঘটে গেছে । আপনি টেরও পেলেন না। এসব অজান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলোর মধ্যে একটি হল DNS প্রক্রিয়া বা সম্পূর্ণ রূপে Domain Name Server প্রক্রিয়া । আপনি যে ডোমেন নামটি লিখলেন FACEBOOK.COM এটাতো আপনার কম্পিউটারের ইন্টারনেট বুঝে নাহ ! কারণ, বিশ্ব ব্যাপী ব্যবহৃত ইন্টারনেট ডোমেইন হিসেবে শুধু আইপি (IP) সংখ্যাই বুঝে । তাহলে কি ভাবে ইন্টারনেট বুঝে উঠলো যে আপনি মার্ক যাকার্বাগের তৈরী ফেইসবুক ওয়েবসাইটেই ঢুকতে চাচ্ছেন ?

কিভাবে ডোমেইন নেম সার্ভার(DNS) কাজ করে?

এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি আপনার অজান্তে করেছে আপনার ওয়েব ব্রাউজার (ক্রোম ব্রাউজার) এবং আপনার ইন্টারনেট প্রোভাইডার (এই লেখায় গ্রামীণফোন) । আপনি যখন গুগল ক্রোমে facebook.com লিখছেন তখন আপনার ব্রাউজারের ক্যাশ মেমরি (Caches Memory) চেক করে । কারণ, ইন্টারনেট প্রটোকল (IP) যেহেতু কোন আলফাবেট বুঝে না তাই সে এই ডোমেনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা আইপি এড্রেসটা বের করার চেষ্টা করে । এখানে ব্রাউজার ক্যাশ মেমরি বলতে কিছু মেমরি শুধু আপনার কম্পিউটারের সি ড্রাইভে জমা থাকে । যেসব ওয়েবসাইট আপনি আগে ভ্রমণ করেছেন প্রত্যেকটারি কিছু মেমরি কম্পিউটারে জমা থাকে । সেখানে চেক করে যদি পায় তবে আর কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন পরে না। যেহেতু ব্রাউজার আইপি চিনতে পেরেছে তাই এখন ফেইসবুক ব্রাউজ করতে পারবেন । ধরুণ, আপনি ক্রোম নতুন ইন্সটল করেছেন । আপনার ব্রাউজারে কোন ক্যাশ জমা নেই ।

যখন দেখলো ব্রাউজার facebook.com নামটাকে চিনছে না তখন ব্রাউজার এই ডোমেইনটা Resolver Server বা আমরা সাধারণত একে বলি ISP (Internet Service Provider) নামে আরেকটা সার্ভারে অনুরোধ পাঠাবে । এই ISP হল আপনার ব্যবহৃত ইন্টারনেট প্রোভাইডার । এখানে আপনি গ্রামীণফোনের ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন । তো এই লেখায় ISP হল গ্রামীণফোন । ব্রাউজার ISP কে বলবে, "ভাই আমি facebook.com এর আইপি জানি না, আপনি আমাকে আইপি জানতে সহায়তা করুন ।" তখন ISP তার ক্যাশ মেমরি চেক করবে । সেখানে যদি ডোমেইনটির তথ্য থেকে থাকে তবে সে দিয়ে দিবে । ধরলাম, ISP তে সে ডোমেইনের কোন তথ্য নেই । তখন, ISP আবার ROOT SERVER নামের আরেকটি সার্ভারকে অনুরুধ করবে । 

ROOT SERVER হল এমন একটি সার্ভার যেখানে পৃথিবীর ডোমেন নেমগুলোকে শ্রেণীবিন্যাস করে রাখা হয় । এটি পৃথিবীর মোট ১২টি সংগঠন এই সার্ভারটি পরিচালনা করে আর এই সংগঠনগুলোর মাধ্যমে সারা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রান্তে হয়েছে ১৩টি রুট সার্ভার । যাদের প্রত্যেকের আইপি আলাদা । নিচে সংগঠনগুলোর তালিকা দেয়া হল,


  • A VeriSign Global Registry Services
  • B University of Southern California, Information Sciences Institute
  • C Cogent Communications
  • D University of Maryland
  • E NASA Ames Research Center
  • F Internet Systems Consortium, Inc.
  • G US DoD Network Information Center
  • H US Army Research Lab
  • I Netnod
  • J VeriSign Global Registry Services
  • K RIPE NCC
  • L ICANN
  • M WIDE Project
 তারা সার্বক্ষণিক এই সার্ভারকে আপটুডেট রাখে । ধরলাম রুট সার্ভের facebook.com এর IP বের করতে পারল না । তখন ROOT SERVER এই অনুরুধকে TLD নামক আরেক সার্ভারে প্রেরণ করে । 

TLD হল Top Level Domain সার্ভার । এই সার্ভারে উচ্চ মানের ডোমেন এক্সটেনশন গুলো রেকর্ড করে রাখে । যেমন,  .com , .org, .net , .edu, .gov ইত্যাদি হল Top Level Domain এর উদাহরণ । এই সার্ভারে .com ডোমেইনের ইনফর্মেশনতো আছে কিন্তু তার আইপি এড্রেস তার কাছে স্টোর থাকে না । সে ফাইনালি আরেকটি ওয়েব সার্ভারে এই অনুরুধটি পাঠায় । এই ফাইনাল ওয়েব সার্ভারের নাম Authoritative Name Server । এ সার্ভারে সকল ডোমেইনের ইনফরমেশনআইপি স্টোরড থাকে ।

তাই TLD এর পাঠানো রিকুয়েস্টকে সে পর্যবেক্ষণ করে facebook.com (টপ লেভেল ডোমেইন) এর আইপি খুঁজে বের করে । পাওয়ার সাথে সাথে সে ISP সার্ভারে প্রেরণ করে । আইএসপি যখন facebook.com এর আইপি পেয়ে যায় সে আপনার ক্রোম ওয়েব ব্রাউজারকে দিয়ে দেয় । এখন আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলের ক্যাশ মেমরিতে facebook.com এর আইপি জমা থাকবে যাতে করে আবার এই সম্পূর্ণ স্টেপস গুলো নতুন ভাবে করতে না লাগে । এই ভাবে ডোমেইন নেম সার্ভার বা DNS একটি ডোমেইনের লিখিত রূপ থেকে তার আইপি খুঁজে বের করে । এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটাই DNS ম্যানেজারের কাজ ।
আশা করি DNS বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন । আগামিতে VPN কিভাবে কাজ করে সে বিষয়ে লেখবো । আমার ব্লগ ভিজিট করার জন্য ধন্যবাদ ।

তথ্যসূত্রঃ
  1. How a DNS Server (Domain Name System) works
  2. What is a DNS Server?
  3. DNS Server Types
  4. Name Servers
  5. What is an Internet Service Provider?
  6. Root name server
  7. An introduction to the Domain Name System
  8. What is an Authoritative DNS server?

ইন্টারনেট ডাউনলোড ম্যানেজার এর অজানা সব ফিচার | IDM Grabber Project | Download Whole site in one click

ইন্টারনেট ডাউনলোড ম্যানেজার এর অজানা সব ফিচার | IDM Grabber Project | Download Whole site in one click

ইন্টারনেট ডাউনলোড ম্যানেজার হল পৃথিবীতে সবচাইতে বহুল ব্যবহৃত ফাইল ডাউনলোডিং কম্পিউটার এপ্লিকেশন। যদিও এটি কিনে ব্যবহার করতে হয় । আজকের ভিডিওতে এই IDM এর কিছু অজানা চমৎকার চমৎকার ফিচার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফিচার গুলো নিচে তোলে ধরা হল, 
1. (1:20) Downloads Scheduling 
2. (2:20) Automatic Download URL on Clipboard 
3. (1:20) Social Media Streaming video Download 
4. (1:20) Download Image files by IDM 
5. (1:20) Grabber Project (Download a whole site at one click) 
6. (1:20) Download all links at one click by IDM 
উপরের সকল কাজ ভিডিওতে দেখানো হয়েছে । আশা করি ভিডিওটি থেকে অনেক কিছু শিখতে পারবেন। ভিডিওটি আপনার বন্ধু বান্ধবদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

কিভাবে ব্লগারে ডোমেন রিডাইরেক্ট করবো? (ভিডিও সহ)

কিভাবে ব্লগারে ডোমেন রিডাইরেক্ট করবো? (ভিডিও সহ)
অনেকে ব্লগারে সাবডোমেন ব্লগ খুলে যখন ব্লগ কিছুটা জনপ্রিয় হয়ে উঠে তখন ডোমেন কিনে নেন । তবে ব্লগারে ডোমেন রিডাইরেক্ট করতে গিয়েই পরে যান বিপাকে । তাদের জন্যই আজকের এই ভিডিও টিউন । খুব সহজে বাংলা ভাষায় ভিডিওটি তৈরী করা । দেখে নিন ।

আমি যেসব টপিক নিয়ে এই ভিডিওতে কথা বলেছি,

  • ব্লগার সেটিংস
  • ব্লগার বেসিক সেটিংস
  • থার্ডপার্টি ইউ.আর.এল এডিং (Adding third party URL for your blog)
  • CNAME সেটিংস
  • গোডেডি ডোমেন রিডাইরেক্ট পদ্ধতি (Godaddy Domain Redirect to Blogger Site)
  • গুগল আইপি, গোডেডিতে যোগ করার কৌশল । ইত্যাদি ইত্যাদি ।

↺ Read More | ইন্টারনেট কি (What is Internet) ?
সরাসরি ভিডিওটি দেখুন । অনেক কিছু বুঝতে পারবেন । প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত অবশ্যই দেখবেন ।

ইন্টারনেট কি (What is Internet) ?

ইন্টারনেট কি (What is Internet) ?
আধুনিক প্রযুক্তির যুগে আমরা ইন্টারনেট ছাড়া কিছুই বুঝতে পারি না । এই নেটওয়ার্ক আমাদের চারদিক থেকে গ্রাস (Consume) করে রেখেছে । এখন পৃথিবীর কোণায় কোণায় ইন্টারনেট পৌঁছেছে । আপনি না চাইলেও নেটওয়ার্ক আপনাকে চারদিক থেকে প্রতি মুহূর্তে ঘিরে রয়েছে । তাহলে কেন না, আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন না । অবশ্যই এই আলট্রা মডার্ন প্রযুক্তিটাকে ব্যবহার করা উচিৎ । আমার জানার প্রযোজন নেই কে কোথায় কিভাবে এই ইন্টারনেট আবিষ্কার করেছে কিংবা কেইবা বর্তমানে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করছে । তবে আপনি যদি আগ্রহী হোন তবে এই টিউনটি আপনার জন্য ।


তাহলে জেনে নিই ।
প্রথমে আসি ইন্টারনেট (Internet) কিভাবে আবিষ্কৃত হয়েছে সে বিষয়ে ।

ইন্টারনেট আবিষ্কারঃ
১৯৫০ এর শেষের দিকে এবং ১৯৬০ সালের শুরুর দিকে SABRE (an airline reservation system) ও AUTODIN I (a defense command-and-control system) এই দুটি কাজের জন্য নেটওয়ার্ক ব্যবহার শুরু হয় । এইসব নেটওয়ার্ক এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ডাটা ট্রান্সফার করা হত । ১৯৬০ এর দশকে কম্পিউটারে সেমিকন্ডাকটর ব্যবহারের পর থেকে নেটওয়ার্কের ব্যবহার আর সহজ হয়ে পরে । এই নতুন কম্পিউটারগুলোতে বেচ প্রসেসিং (Batch Processing) ও টাইম শেয়ারিং (Time Shareing) দুটি নতুন মাত্রা যোগ হয় । এতে অনেক কম্পিউটারের সাথে সহজেই ফাইল শেয়ার করা যেত । যার ফলে আরো দ্রুততার সাথে নেটওয়ার্কিং শুরু হয় । এতে একটি ড্যাটা একি নেটওয়ার্কে সংযুক্ত থাকা অনেকের সাথে আদান প্রদান সক্ষম হয়ে উঠে । এই নেটওয়ার্কের ধরণ ছিলো হোস্ট টু হোস্ট (Host to Host) । যার ফলে একটি হোস্টার থেকে আরেক হোস্টারে কাছে ফাইল ও মেসেজ অনেক দ্রুততার সাথে ট্রান্সফার করা সম্ভব হয়ে পরে । এই পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণটাই ছিলো আমেরিকান ডিফেন্সের একটি প্রোজেক্টের মাধ্যমে । যার নাম আরপা ARPA [Advanced Research Projects Agency (ARPA)] । আরপা ছিলো পৃথিবীর প্রথম সাধারণের জন্য নির্মিত নেটওয়ার্ক । আরপা , আমেরিকান সরকারি কাজে ও শুধুমাত্র আমেরিকান বড় বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর জন্য উন্মুক্ত ছিলো । পরে ডারপা DARPA (Defense Advanced Research Projects Agency) নামে আরো একটি নেটওয়ার্ক তৈরী হয় । যেটা স্যাটেলাইটের সাথে কানেক্ট করে একটি নেটওয়ার্ক গঠন করে আমেরিকান ডিফেন্সের তথ্য আদান প্রদান করা যেত । এই মাত্রায় এসে মোবাইলের সাথে নেটওয়ার্কিং সম্পর্কযুক্ত হয় ।
আরপা নেটওয়ার্কের একটি পরীক্ষামূলক গবেষণা স্বরূপ পৃথিবীতে ইন্টারনেট আবিষ্কৃত হয়েছিলো । যেখানে ১৯৭০ সাল থেকে গবেষণা শুরু করেন কম্পিউটার বিজ্ঞানি ভিন্টন শ্রেফ (Vinton Cerf)বোব কান (Bob Kahn) । তাদের গবেষণা থেকেই এসেছে ইন্টারনেট এপ্লিকেশনটি । আরেক কম্পিউটার বিজ্ঞানী পল বারান (Paul Baran) আমেরিকার ডিফেন্সের জন্য একটি নেটওয়ার্ক ফিগার তৈরী করেন । যেখানে নেটওয়ার্ক ছিলো বহুমুখী । অর্থাৎ, যদি বিদ্রোহী দল কোন সার্ভারে আক্রমণ করে তাহলে যাতে সব ড্যাটাই ধ্বংস হবে না । নিচের চিত্রে খেয়াল করুন ফিগারটি ।
তিনি চিন্তা করতেন বহু কেন্দ্রিক নেটওয়ার্কের । এক কেন্দ্রিক নেটওয়ার্ক পদ্ধতিতে নিওক্লিয়ার বোমা
কেন্দ্রতে পরলেই সবকিছু শেষ হয়ে যায় । তাই তিনি এই বহুকেন্দ্রিক নেটওয়ার্ক কাঠামোটি তৈরী করেন ।

তিনি বহুকেন্দ্রিক এই গঠনের মাধ্যমে এমন একটি ব্লক তৈরী করেন যেটার মাধ্যমে নিউক্লিয়ার বিষ্ফোরণে কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও বাকি অংশগুলো রিতিমত কাজ করবে ।


চিত্রে প্রত্যেকটি গুল পয়েন্টই কম্পিউটার । এক একটির সাথে ইন্টার কানেক্টেড । তাই যেকোন স্থানে ক্ষতি হলেও ড্যাটা ট্রান্সফারে কোন অসুবিধা হবে না ।
এটার কিছু ত্রুটি ছিলো যার দরুন এমনি একটি টেকনিক ব্যবহার করে তৈরী হয়ে যায় ইন্টারনেট । ইন্টারনেটই প্রথম কোন এপ্লিকেশন যেটা সারা পৃথিবী ব্যাপী ড্যাটা ট্রান্সফার করতে পারে ।

প্রশ্ন হল, এই ইন্টারনেট কে নিয়ন্ত্রণ করে?

  • ইন্টারনেট বলতে গেলে কেউ নিয়ন্ত্রণ করে না কিংবা বলা যায় সবাই নিয়ন্ত্রণ করে । প্রতিটি এলাকায় সে সার্ভারগুলো আমাদের ইন্টারনেট প্রোভাইড করে তারাই এই নেটওয়ার্ককে নিয়ন্ত্রণ করে । আর ব্যবহারকারী ছাড়া কোন নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণই বেকার । তাই প্রত্যেক্ষভাবে প্রতিটা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীই এই ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ন্ত্রণ করে ।


ইন্টারনেটের আবিষ্কার কে?

  • ইন্টারনেটের আবিষ্কারক ভিন্টন শ্রেফ (Vinton Cerf) ও বোব কান (Bob Kahn) ১৯৭০ সালে এটি তৈরী করেন ।  উপরে উল্লেখ আছে ।


ইন্টারনেট কখন আবিষ্কৃত হয়?

  • ১লা জানুয়ারি ১৯৮৩ সালে ইন্টারনেট আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করা হয় ।


ইন্টারনেটের পূর্ণ নাম কি?

  • ইন্টারনেটের পূর্ণ নাম হল Interconnected Network । 


প্রথম ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু হয় কত সালে?

  • ১৯৬৮ সালে ।


বাংলাদেশে কখন ইন্টারনেট ব্যবহার সবার জন্য উন্মুক্ত হয়?

  • ১৯৯৬ সাল থেকে । 


তথ্য সূত্রঃ
১। https://www.britannica.com/technology/Internet
২। https://www.khanacademy.org/computing/computer-science/internet-intro/internet-works-intro/v/what-is-the-internet
৩। https://en.wikipedia.org/wiki/History_of_the_Internet
৪। https://www.history.com/news/who-invented-the-internet

৩৬০ ট্যারাবাইট ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ছোট্ট স্টোরেজ ডিভাইস (5D Optical Data Storage)

৩৬০ ট্যারাবাইট ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ছোট্ট স্টোরেজ ডিভাইস (5D Optical Data Storage)
আপনি কি জানেন 5D অপটিক্যাল স্টোরেজ ডিভাইস কি?
এই স্টোরেজ মেমরিকে বলা হয়, "সুপারম্যান মেমরি ক্রিস্টাল" । এটি একটি নেনো স্ট্রাকচার গ্লাস (ছোট্ট কয়েন তুল্য গ্লাস), যা ৫ ডাইমেনশনের ডিজিটাল ডাটা মেমরিতে জমা রাখতে পারে । এই মেমরি ৩৬০ ট্যারাবাইট ডাটা জমা রাখতে পারে । এটি ১৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কয়েক বিলিয়ন বছর সহজেই ডাটা ধারণ করে রাখতে পারে । আর ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত এই ডিক্স তাপ সহ্য করে রাখতে পারে। চিন্তা করুন এই ছোট্ট ডিক্সে কি পরিমান ডাটা ধারণ করা সম্ভব। এত চমৎকার টেকনোলোজি আবিষ্কৃত হচ্ছে যে আমরা চোখের পলকে অনেক কিছুই পালটে যেতে দেখবো।
চিত্রঃ 5D অপটিক্যাল স্টোরেজ ডিভাইসের গঠন
এই ডিস্কটি পঞ্চম মাত্রার । তিনটি লেয়ারে এই ডিক্সটি তৈরী করা হয়ছে । যা ২০১৩ সালে আবিষ্কৃত হলেও প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিলো ২০১৮ সালের স্পেসক্সের "Elon Musk's Tesla Roadster" নামের একটি সূর্য গবেষণাকারী মিশনে ।


২০১৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারী ফেলকন ৯ রকেটে করে চাঁদ গবেষণার জন্য ব্যারেশীট (Beresheet) রোবটে একটি 5D Optical Data Storage ডিক্স সাথে করে পাঠানো হয় । ঐ ডিক্সে Universal Declaration of Human Rights (UDHR), Newton’s Opticks, Magna Carta and Kings James বাইবেলের সম্পূর্ণ ডাটা জমা আছে । আর ভবিষ্যতে বিলিয়ন বিলিয়ন বছর পরে কেউ যদি ব্যারেশীট (Beresheet) রোবটটি পায় তাহলে এই ডিক্সের ডাটা গুলো মানব ইতিহাসের বিরাট অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত করাবে । এমনটাই আশা করে ব্যারেশীট স্পেসক্রাফ্ট‌টিতে এই ডিভাইসটি জুড়ে দেয়া হয়েছে । তবে দুঃখের ব্যাপার ব্যারেশীট স্পেসক্রাফ্ট‌টি সফল ভাবে চাঁদে অবতরণ করতে পারে নি। পৃথিবীর সাথে সেটি এখন আর যোগাযোগ নেই । সেটি এখন মহাশূণ্যের অসীম বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে যাযাবর হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে । তবে মহাজাগতিক অন্য কোন প্রাণী যদি এটি পায় তবে তারা পৃথিবী নামক গ্রহে মানুষের বসবাস তথা মানুষের বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে অবগত হতে পারবে ।
এই স্টোরেজ ডিভাইসটি মানুষের কল্পনার বাহিরে । তাই এই ডিক্সকে বিভিন্ন নামে নাম করণ করা হয়েছে। একে আখ্যায়িত করা হয়, "ব্ল্যাক ম্যাজিক অব হিউম্যান ডিক্স মেমরি" বা "ফিউচার স্ট্রোরেজ ডিভাইস" নামে ।
চিত্রঃ বাইবেল ধারণ করা 5D অপটিক্যাল স্টোরেজ ডিভাইস
এই ডিভাইসের ডাটা আপনি সিডি রম বা ক্যাবল ব্যবহার করে দেখতে পারবেন না। এতই সূক্ষ্ম ডিভাইস যে রিড করতে হলে আপনাকে মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করতে হবে।
ভবিষ্যৎ বিজ্ঞান তথ্য সংরক্ষণার্থে এই ডিভাইসটি ব্যবহার আশানুরূপ ।